Skip to main content

নতুন মাদকের নাম ‘সোশ্যাল মিডিয়া’, স্মার্টফোন যার ডিলার!

 


নতুন মাদকের নাম ‘সোশ্যাল মিডিয়া’, স্মার্টফোন যার ডিলার!
অনেকেই বলে থাকেন, সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের অনেক উপকার করেছে। দূরকে কাছে এনে দিয়েছে, পরিবার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সারাক্ষণ যুক্ত থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।
সর্বশেষ জাতীয় আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিনোদন খেলা স্বাস্থ্য তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা চট্টগ্রাম প্রতিদিন
search
নতুন মাদকের নাম ‘সোশ্যাল মিডিয়া’, স্মার্টফোন যার ডিলার!
নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ১৩০৯ ঘণ্টা, আগস্ট ৩০, ২০২১
নতুন মাদকের নাম ‘সোশ্যাল মিডিয়া’, স্মার্টফোন যার ডিলার!
অনেকেই বলে থাকেন, সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের অনেক উপকার করেছে। দূরকে কাছে এনে দিয়েছে, পরিবার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সারাক্ষণ যুক্ত থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।
আর তাই সোশ্যাল মিডিয়াকে তারা প্রযুক্তির আশির্বাদ হিসেবেই দেখতে চান।
আবার কিছু মানুষ এই মাধ্যমের সুবিধাগুলো স্বীকার করে নিয়েও অসুবিধা বা অপকারিতাগুলো তুলে ধরেন।
আর হিসাব করে দেখলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা লাভের চেয়ে ক্ষতির মুখেই আছি বেশি। চলুন দেখা যাক হিসাব করে...
চিন্তা করুন, আপনি বুঝতে পারছেন আপনার সময় নষ্ট হচ্ছে, আপনার ঘুম নষ্ট হছে, শরীরের ওপর চাপ পড়ছে।
আপনি চেষ্টা করছেন এই অভ্যাস থেকে বের হতে, কিন্তু পারছেন না। নিশ্চয়ই আপনি ভাবছেন এখানে কোনো ক্ষতিকর মাদকের প্রভাব নিয়ে কথা হচ্ছে, কিন্তু না! এখানে বলা হচ্ছে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন ও এতে থাকা সোশ্যাল মিডিয়ার কথা।
এসব নিয়ে কথা বলেছেন হ্যাবিট স্ট্রং এর প্রধান রাজন সিং।
রাজন সিং স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের নেশা নিয়ে প্রথমেই বলেন, এই কোম্পানিগুলো অর্থ উপার্জন করে কোথা থেকে। যদিও আমরা অনেকেই মনে করি যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে তো টাকার প্রয়োজন হচ্ছে না। আমরা ফ্রিতেই ব্যবহার করতে পারছি। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রলিং করতে করতে একটু পরপরই সামনে বিজ্ঞাপন চলে আসছে। আর এই বিজ্ঞাপনই সোশ্যাল মিডিয়ার আয়ের প্রধান উৎস।
অর্থাৎ ফেসবুক আমাদের সময়, মনোযোগ ও অভ্যাসকে ব্যবহার করে আমাদের সামনে বিজ্ঞাপন নিয়ে আসছে। আর সেই বিজ্ঞাপন থেকে আয় করছে। আমরা যতো বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছি, ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম তা কাজে লাগিয়ে মুনাফা তৈরি করে নিচ্ছে।
আর এভাবেই ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে ফেসবুকের আয় ছয় লাখ কোটি রুপিরও বেশি বলে জানান রাজন সিং।
তিনি আরো বলেন, আপনি যদি ফেসবুক হন, তাহলে কিভাবে নিজের আয় বৃদ্ধি করবেন এবং আপনার করণীয় কী হবে? স্বাভাবিকভাবেই আপনি চাইবেন, মানুষ এই প্ল্যাটফর্মে আসুক এবং যথাসম্ভব বেশি সময় এখানে কাটিয়ে দিক। বাস্তবেও মানুষ বেশিরভাগ সময় ফেসবুক কিংবা ইন্সটাগ্রামে কাটিয়ে দেয়।
আর এজন্য দরকার ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে যেন আমরা মনের অজান্তেই চলে আসি। আর এই আসাটাকে একটি অভ্যাসে পরিণত করতে হবে তা যেন একসময়ে আসক্তির পর্যায়ে চলে যায়। অর্থাৎ আমরা কারণে-অকারণে যেন সোশ্যাল মিডিয়া চেক করতে চলে আসি। অনেক সময়ে আমরা আনমনেই এটি করে থাকি।
রাজন বলেন, আসক্তি কী? আসক্তির মধ্যে দুই ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকে। যার একটি হলো- অবশ্যই কাজটি আবশ্যিকভাবে করার জন্য তাড়না তৈরি হওয়া এবং দ্বিতীয়টি হলো- যখন এই অভ্যাসের ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সেটা জেনেও আর তা থামাতে পারা যায় না; যখন এ ধরনের পর্যায় চলে আসে, তখন সেই অভ্যাসকে আসক্তি বলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই আসক্তি আমাদের মস্তিষ্কে কোকেনের মতো প্রভাব ফেলে। এটি আমাদের মস্তিষ্কে এক প্রকার হরমোন নিঃসরণ করে যা ডোপামিন নামে পরিচিত। কেউ কোকেন সেবন করলে তার মস্তিষ্কে ডোপামিনের নিঃসরণ ঘটে, সে এক ধরণের প্রশান্তি অনুভব করে এবং সে আরও বেশি করে কোকেন সেবনের তাড়না অনুভব করে। সোশ্যাল মিডিয়াও ঠিক একইভাবে আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিনের নিঃসরণ ঘটায়।
আর কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া আমদের ভেতরে এই আসক্তি তৈরি করে?
উদাহরণ টেনে রাজন বলেছেন, নোটিশ বোর্ডে যখন কোনো কিছু লেখা থাকে, তখন তাতে মানুষের তেমন একটা আগ্রহ থাকে না। এমনকি সেখানে কবিতা কিংবা অন্য কিছু লেখা থাকলে খুব বেশি মানুষ দেখে না। দেখলেও তার প্রতিক্রিয়া বোঝা যায় না। কিন্তু কেউ যখন ফেসবুকে ছবি, গল্প কিংবা অন্য কিছু পোস্ট দিচ্ছে। মানুষ তাতে লাইক দিতে পারছে।
যে ব্যক্তি ছবিটি পোস্ট করেছেন, তিনি তখন মানসিকভাবে দারুণ প্রশান্তি লাভ করছেন। তিনি ভাবছেন একশো মানুষ লাইক দিয়েছে, এক হাজার মানুষ লাইক দিয়েছে কিংবা ১০ হাজার মানুষ লাইক দিয়েছে তার লেখা, ছবি বা গল্পে। আর এটা দেখে অন্যরা ভাবছে, ওই ব্যক্তির পোস্টে এতো লাইক পড়েছে, এটা তো অনেক বড় কিছু। সে কারণে মানুষজন সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ার থাকার বিষয়টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। যার ফলোয়ার বেশি, অন্যরাও তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবছে। এখন এটা একটি খেলা হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য এবং তাদের কাছ থেকে লাইক পাওয়ার জন্য তারা আরও বেশি আকর্ষণীয় ছবি ও পোস্ট শেয়ার করছে। যত বেশি লাইক, কমেন্ট, শেয়ার হচ্ছে, পোস্টদাতা তত বেশি খুশিতে উত্তেজিত হচ্ছে। আপনি যখন ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন, আপনিও চান যে, অনেক বেশি মানুষ এতে লাইক দিক। এতে করে ডোপামিনের সঙ্গে ডিল হয়ে যাচ্ছে। যখন অনেক বেশি মানুষ আপনার পোস্টে লাইক দিচ্ছে, কিংবা এমন কেউ লাইক দিয়েছে, যা আপনি প্রত্যাশা করেননি; তখন খুশিতে আপনার ডোপামিন লেভেল বেড়ে যাচ্ছে।
এভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতি আমাদের আসক্তি তৈরি হচ্ছে। এবং সেই আসক্তি ক্ষতিকর পর্যায়ে চলে গেলেও আমরা তা থেকে মুক্ত হতে পারছি না।
ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে ভয়াবহ মাদকের মতোই এটি আমাদের টেনে নিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে।.....

Comments

Popular posts from this blog

ফেসবুকের ক্ষতিকর দিকগুলো:

  ফেসবুকের ক্ষতিকর দিকগুলো: ফেসবুকের আবার ক্ষতি কি? এটি তো নিতান্তই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। উপরন্তু ইদানীং এটিকে অনেকের ব্যবসা আর জীবিকার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন। কত্ত পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পাওয়া যায় এই ফেসবুকে—যুক্ত থাকা যায় পৃথিবীর সব প্রান্তের সঙ্গে। জানা যায় অনেক কিছু, এমনকি সংবাদপত্র আর টেলিভিশনের চেয়েও দ্রুততর সময়ে হালনাগাদ তথ্যটি পাওয়া যায় ফেসবুকে। সবই তো ভালো। কথা সত্য। ফেসবুক সত্যিই ভালো। কিন্তু ‘ভালো’ভাবে এর ব্যবহার করতে না পরলে সমুদয় ক্ষতি। যেমন বিদ্যুতের কথাই ধরা যাক—বিদ্যুৎ কত উপকারী; বাতি জ্বলে, পাখা ঘোরে—বড় বড় কারখানা চলে বিদ্যুতে। কিন্তু একে ভালোবেসে বিদ্যুতের তার শরীরে জড়িয়ে রাখলে সমূহ বিপদ! তেমনি ফেসবুকের পরিমিত আর যৌক্তিক ব্যবহার করতে না পারলে ক্ষতি অনিবার্য। ফেসবুকের প্রধান ২১টি ক্ষতি হচ্ছে: ১. সময় নষ্ট : ফেসবুক ব্যবহারের দিক থেকে ঢাকা শহর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী। বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটির কাছাকাছি ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছেন। ২০১৭ সালে তরুণদের ওপর পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী শুধু চ্যাটিংয়ের জন্য গড়ে প্রতিদিন ৮০ মিনিট করে ব্যয় করেন বাংলাদেশের তরুণেরা।...

শিশুদের মোবাইল আসক্তি পরিণতি ও করণীয়: শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সভাপতি, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি।

  শিশুদের মোবাইল আসক্তি পরিণতি ও করণীয়: শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সভাপতি, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি। নিঃসন্দেহে ডিজিটাল প্রযুক্তি তথা মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ- এসব ডিভাইস সৃজনশীল এবং সুবিধাজনক। কিন্তু শিশুদের জন্য এটি বেশ বিপদজনক। এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার অর্থাৎ অত্যধিক স্ক্রিন টাইম শৈশবের সামাজিক এবং মানসিক বিকাশের ওপর ভীষণ রকম ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব ফেলে। বাস্তব জীবনে, যেসব শিশু তাদের পর্দায় আসক্ত, তারা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যেমন- খেলাধুলা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানো মিস করে; ফলে তাদের দক্ষতা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তা ছাড়া মনোনিবেশ করার এবং বাস্তবজীবনে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই শিশুর স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তাদের চোখের বিশ্রামের জন্য স্ক্রিন থেকে পর্যাপ্ত সময় বিরতি নিতে উপদেশ দিতে হবে। টিভি, মোবাইল গেম বা যে কোনো ধরনের ভার্চুয়াল এন্টারটেইনমেন্ট দেখার সময়ে আমাদের মস্তিষ্কের কোষ থেকে ডোপামিন নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ হয়। এ ডোপামিন আমাদের মনে এক ভালোলাগার অনুভূতি সঞ্চার করে। তার ফলে অতি সহজেই আমরা এ ধরনের এন্টারটেইনমেন্ট মি...

অপরিকল্পিত মোবাইল ব‍্যবহারে আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত অন্ধকার:

  অপরিকল্পিত মোবাইল ব ‍ ্যবহারে আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত অন্ধকার: তথ্যপ্রযুক্তির এ সময়ে স্মার্টফোন নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা মহামারির লকডাউনের সময়ে এর ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। প্রায়ই দেখা যায়, অভিভাবকরা বাচ্চাকে শান্ত রাখার জন্য তার হাতে স্মার্টফোন বা ট্যাব দেন। গান, কার্টুন বা মজার ভিডিও চালিয়ে দিয়ে তাকে শান্ত রাখা হয়। আবার স্কুল-কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের কারণে বাধ্য হয়েই শিশুর হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন। দিনের অনেকটা সময় শিশুদের স্মার্টফোন হাতে থাকায় এক ধরনের আসক্তিতে রূপ নিয়েছে এটি। আজকের আয়োজনে শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি দূর করতে করণীয়সহ বিস্তারিত আলোচনা। বর্তমানে অনলাইন ক্লাস, বিনোদন ও কার্টুন- এসবের কারণে শিশুদের সিংহভাগ সময় কাটে স্মার্টফোনে। এখন শিশুরা সাধারণত মোবাইল, টেলিভিশন, স্মার্টফোন, ট্যাব ও ইউটিউবে সময় কাটায়। এটি অনেকেই ভালোভাবে দেখে। কিন্তু এ প্রযুক্তির কারণে শিশুদের মধ্যে নানাবিধ বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে, এমনকি অতি অল্প বয়সেই তারা অ্যাডাল্ট বিভিন্ন কনটেন্ট দ্বারা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এভাবেই শিশুগুলো মোবাইলে অ্যাপসগুলোর সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে...