Skip to main content

মোবাইল ফোনে আসক্তি? মুক্তির উপায়ও আছে!

 


মোবাইল ফোনে আসক্তি? মুক্তির উপায়ও আছে!
কেউ একজন কি করছে সেই আপডেট না রাখলে কি আপনার কোনো ক্ষতি হচ্ছে? ফেসবুকে না থাকলে কারো জন্মদিন ভুলে যাবেন বলে চিন্তা করছেন?
স্মার্টফোন যে আমাদের জীবনের অত্যাবশ্যক অংশ হয়ে উঠেছে তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপস, লাইভ স্ট্রিমিং, গেমসসহ আরও অসংখ্য সুযোগ সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি স্মার্টফোনের এই চক্কর আপনার জন্য একটা কঠিন গোলকধাঁধাও হয়ে উঠতে পারে।
শুধুমাত্র পর্যাপ্ত গবেষণামূলক ডেটা না থাকায় মোবাইল ফোনে আসক্তিকে এখন পর্যন্ত 'রোগ' হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে না। ফোন ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় আচরণগত, মানসিক ও চিন্তাধারার নানাবিধ সমস্যার কথা এরই মধ্যে অনেক বিশেষজ্ঞই বলেছেন। ব্যক্তিগত সম্পর্কে ক্ষতির কারণ, ফোন হাতে না পেলে আতঙ্কিত আব শঙ্কিত হয়ে যাওয়া কিংবা দুশ্চিন্তা করা এবং কোনোকিছু গভীরভাবে চিন্তা করার বা সৃজনশীলতায় বাঁধা দেয়ার মত সমস্যার মূলেও মোবাইল ফোন ব্যবহারের ভূমিকা আছে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশন এর প্র্যাকটিস ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড কোয়ালিটি শাখার পরিচালক লিন বুফকা বলেন, সম্ভাব্য ক্ষতির ঝুঁকি দেখেও এড়িয়ে যাওয়া কিংবা প্রিয়জনদের কাছ থেকে ফোন ব্যবহারের ব্যাপারে অভিযোগ শুনলেই আমাদের বোঝা উচিত যে আমাদের আচরণে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তবে মোবাইল ফোনে আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়ও আছে। আপনি যদি চান নিজের সুস্থ জীবনযাত্রা বজায় রাখতে এবং ফোনে আসক্তি থেকে দূরে থাকতে, তাহলে প্রাথমিকভাবে নিচের ১১ টি উপায় অনুসরণ করতে পারেন:
১। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের যুক্তি খুঁজে দেখুন
আপনার অন্যান্য কাজের চাইতে মোবাইল ফোন নামক ডিভাইসটি হয়তো আপনার কাছে এত বেশি আকর্ষণীয় ও মজার লাগে যে, সেই কারণে আপনি ফোন ব্যবহার কমাতে চান না।
'ফোনের ব্যবহার কমানোর জন্য যৌক্তিক কারণ খুঁজে বের করা আমাদের নিজেদের ভেতরে সহজাত প্রেরণা সৃষ্টির একটি অংশ', বলেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিহেভিয়ারাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. স্মিতা দাস।
স্মিতা বলেন, 'আপনি যদি চিন্তা করতে থাকেন যে কোনটি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন; তখন দেখবেন সাময়িক বিনোদন বা আনন্দের চাইতে সমাজ, স্বাস্থ্য বা মানসিক স্বাস্থ্যকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানাতে থাকবে আপনার মস্তিষ্ক।'
২। ফোন ব্যবহারের সময় পরিমাপ করুন
আপনি সারা দিন-রাতে কতক্ষণ সময় ফোনের পেছনে ব্যয় করছেন, তা পরিমাপ করুন। স্মার্টফোনে স্ক্রিনটাইম ডেটা বা সাধারণ হিসাবেই তা মাপা যাবে বলে জানালেন বুফকা।
বোঝার চেষ্টা করুন যে ঠিক কি কারণে আপনি বারবার মোবাইলে ফিরে যাচ্ছেন; সেটা কি মেসেজ দেয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নাকি নিছক স্ক্রলিং করা। সমস্যার সমাধান করার আগে সমস্যা কোথায় বুঝতে হবে আপনাকে।
৩। নির্দিষ্টসীমা বেঁধে দিন
একবার যখন আপনি নিজের দুর্বলতাগুলো জেনে যাবেন, তখন স্মার্টফোনে একটা টাইমার সেট করে দিন; যাতে এটা আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আজকের মত ফোন ব্যবহারের সময়সীমা শেষ। তারপর এই সময়টা আস্তে আস্তে কমিয়ে আনতে হবে আপনাকে। আপনি স্ক্রিন টাইম ট্র্যাকিং অ্যাপ এর সাহায্য নিতে পারেন যা আপনাকে সময়মত জিজ্ঞেস করবে যে, আপনি বর্তমান কাজেই ফোনে ব্যস্ত থাকতে চান নাকি অন্য কাজে ব্যবহার করবেন।
৪। নিজের আচরণের পেছনের কারণ বের করুন
কেন আপনি এত সময় ফোন ব্যবহার করছেন? যেকোনো আচরণ পরিবর্তনের আগে আমাদের বুঝতে হবে যে, অন্য কোনো এক বস্তু এই আচরণকে প্রলুব্ধ করছে।
আপনার অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের প্রবণতা মানসিক একঘেঁয়েমি কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত কিনা তা বুঝতে পারলে আপনি এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারবেন।
৫। বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় কাটিয়ে উঠতে হবে
আপনার ফোন আসক্তির কারণ যদি হয় এমনটা মনে করা যে- ফোন কম ব্যবহার করায় আমি কিছু একটা থেকে বাদ পড়ছি না তো? কিংবা সামাজিকভাবে দূরে সরে যাচ্ছি না তো?- তাহলে আপনাকে ভাবতে হবে যে এই উদ্বেগ কতটা যৌক্তিক।
কেউ একজন কি করছে সেই আপডেট না রাখলে কি আপনার কোনো ক্ষতি হচ্ছে? ফেসবুকে না থাকলে কারো জন্মদিন ভুলে যাবেন বলে চিন্তা করছেন?
যেসব মানুষদের সত্যিকার অর্থেই আপনার জীবনে ভূমিকা আছে, তাদের সাথে যুক্ত থাকার মাধ্যমে এসব উদ্বিগ্নতা কাটিয়ে উঠুন। অনলাইনে বেশি সময় থাকা বাদ দিতে চাইলে বা সময়কে ফলপ্রসূ করতে চাইলে, অনলাইনে বন্ধুর তালিকাটা ছোট করতে পারেন; রাখতে পারেন শুধু ব্যক্তিগতভাবে পরিচিতদের।
৬। অধিক স্বাস্থ্যসম্মত কাজ বেছে নিন
অন্য একটা কাজের দ্বারা আগের কাজকে সরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে আচরণগত পরিবর্তন আসে।
আপনি যদি অকারণে স্ক্রলিং করতে থাকেন, সেই সময়ে পছন্দের তালিকায় থাকা একটা বই পড়া, শরীরচর্চা করা বা কিছু পরিষ্কার করার কাজ করতে পারেন।
৭। নো-ফোন জোন তৈরি করুন
খাওয়ার সময়গুলোতে বা সন্ধ্যায় যখন আপনি ফোন ব্যবহার করেন না, সেই সময়গুলোতে আপনার স্ক্রিনটাইম কমে। এরকম কিছু ক্ষেত্র তৈরি করতে পারেন, যেমন- পারিবারিক ঘর বা পড়ার ঘরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোন নিষিদ্ধ রাখা।
৮। প্রয়োজন মাফিক ঘুম
অধিকাংশ মানুষ অ্যালার্ম এর জন্য ফোনকেই ব্যবহার করে। কিন্তু ঘরে ফোন থাকা মানেই আপনি সহজেই সেদিকে আকৃষ্ট হবেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্রল করতে বা অন্য কাজে ঢুকবেন।
তাই এর বদলে আপনি অ্যালার্ম ঘড়িই রাখতে পারেন। নিজের ফোনকে তখন অন্য ঘরে রেখে দিন। ফোন অন্য ঘর থেকে আনতে যাওয়ার অলসতা আপনাকে ফোন ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে পারে।
৯। নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন
খুবই প্রয়োজনীয় বিষয় ছাড়া বাকি সব মাধ্যমের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। এর ফলে অকারণে ফোন হাতে নেয়া বা স্ক্রিন টাইম কমবে।
১০। ল্যাপটপেই যা ব্যবহার করতে পারবেন, তা ফোন থেকে সরিয়ে দিন
ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে ব্যবহার করা যায় সেসব অ্যাপ ফোন থেকে সরিয়ে ফেলুন। এর ফলে ফোনের দিকে আকর্ষণ কমতে পারে।
১১। অন্যান্য পদক্ষেপ
এসব প্রাথমিক টিপসের কোনোটিই যদি আপনার ক্ষেত্রে কাজ না করে, তাহলে বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
ডা. বুফকা বলেন, 'ফোন আসক্তি আমাদের প্রচুর সময় নষ্ট করে দিচ্ছে, এ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদেরকে সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির উপর মনোযোগ দিতে হবে। প্রথম প্রথম খুব সহজ না হলেও, অভ্যাস করতে থাকলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।'
সূত্র- সিএনএন

Comments

Popular posts from this blog

ফেসবুকের ক্ষতিকর দিকগুলো:

  ফেসবুকের ক্ষতিকর দিকগুলো: ফেসবুকের আবার ক্ষতি কি? এটি তো নিতান্তই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। উপরন্তু ইদানীং এটিকে অনেকের ব্যবসা আর জীবিকার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন। কত্ত পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পাওয়া যায় এই ফেসবুকে—যুক্ত থাকা যায় পৃথিবীর সব প্রান্তের সঙ্গে। জানা যায় অনেক কিছু, এমনকি সংবাদপত্র আর টেলিভিশনের চেয়েও দ্রুততর সময়ে হালনাগাদ তথ্যটি পাওয়া যায় ফেসবুকে। সবই তো ভালো। কথা সত্য। ফেসবুক সত্যিই ভালো। কিন্তু ‘ভালো’ভাবে এর ব্যবহার করতে না পরলে সমুদয় ক্ষতি। যেমন বিদ্যুতের কথাই ধরা যাক—বিদ্যুৎ কত উপকারী; বাতি জ্বলে, পাখা ঘোরে—বড় বড় কারখানা চলে বিদ্যুতে। কিন্তু একে ভালোবেসে বিদ্যুতের তার শরীরে জড়িয়ে রাখলে সমূহ বিপদ! তেমনি ফেসবুকের পরিমিত আর যৌক্তিক ব্যবহার করতে না পারলে ক্ষতি অনিবার্য। ফেসবুকের প্রধান ২১টি ক্ষতি হচ্ছে: ১. সময় নষ্ট : ফেসবুক ব্যবহারের দিক থেকে ঢাকা শহর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী। বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটির কাছাকাছি ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছেন। ২০১৭ সালে তরুণদের ওপর পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী শুধু চ্যাটিংয়ের জন্য গড়ে প্রতিদিন ৮০ মিনিট করে ব্যয় করেন বাংলাদেশের তরুণেরা।...

শিশুদের মোবাইল আসক্তি পরিণতি ও করণীয়: শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সভাপতি, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি।

  শিশুদের মোবাইল আসক্তি পরিণতি ও করণীয়: শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সভাপতি, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি। নিঃসন্দেহে ডিজিটাল প্রযুক্তি তথা মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ- এসব ডিভাইস সৃজনশীল এবং সুবিধাজনক। কিন্তু শিশুদের জন্য এটি বেশ বিপদজনক। এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার অর্থাৎ অত্যধিক স্ক্রিন টাইম শৈশবের সামাজিক এবং মানসিক বিকাশের ওপর ভীষণ রকম ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব ফেলে। বাস্তব জীবনে, যেসব শিশু তাদের পর্দায় আসক্ত, তারা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যেমন- খেলাধুলা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানো মিস করে; ফলে তাদের দক্ষতা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তা ছাড়া মনোনিবেশ করার এবং বাস্তবজীবনে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই শিশুর স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তাদের চোখের বিশ্রামের জন্য স্ক্রিন থেকে পর্যাপ্ত সময় বিরতি নিতে উপদেশ দিতে হবে। টিভি, মোবাইল গেম বা যে কোনো ধরনের ভার্চুয়াল এন্টারটেইনমেন্ট দেখার সময়ে আমাদের মস্তিষ্কের কোষ থেকে ডোপামিন নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ হয়। এ ডোপামিন আমাদের মনে এক ভালোলাগার অনুভূতি সঞ্চার করে। তার ফলে অতি সহজেই আমরা এ ধরনের এন্টারটেইনমেন্ট মি...

অপরিকল্পিত মোবাইল ব‍্যবহারে আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত অন্ধকার:

  অপরিকল্পিত মোবাইল ব ‍ ্যবহারে আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত অন্ধকার: তথ্যপ্রযুক্তির এ সময়ে স্মার্টফোন নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা মহামারির লকডাউনের সময়ে এর ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। প্রায়ই দেখা যায়, অভিভাবকরা বাচ্চাকে শান্ত রাখার জন্য তার হাতে স্মার্টফোন বা ট্যাব দেন। গান, কার্টুন বা মজার ভিডিও চালিয়ে দিয়ে তাকে শান্ত রাখা হয়। আবার স্কুল-কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের কারণে বাধ্য হয়েই শিশুর হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন। দিনের অনেকটা সময় শিশুদের স্মার্টফোন হাতে থাকায় এক ধরনের আসক্তিতে রূপ নিয়েছে এটি। আজকের আয়োজনে শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি দূর করতে করণীয়সহ বিস্তারিত আলোচনা। বর্তমানে অনলাইন ক্লাস, বিনোদন ও কার্টুন- এসবের কারণে শিশুদের সিংহভাগ সময় কাটে স্মার্টফোনে। এখন শিশুরা সাধারণত মোবাইল, টেলিভিশন, স্মার্টফোন, ট্যাব ও ইউটিউবে সময় কাটায়। এটি অনেকেই ভালোভাবে দেখে। কিন্তু এ প্রযুক্তির কারণে শিশুদের মধ্যে নানাবিধ বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে, এমনকি অতি অল্প বয়সেই তারা অ্যাডাল্ট বিভিন্ন কনটেন্ট দ্বারা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এভাবেই শিশুগুলো মোবাইলে অ্যাপসগুলোর সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে...