যেভাবে ক্ষতি করছে সোশ্যাল মিডিয়া:
বিশ্বের জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ লোক অনলাইন সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে। এরা গড়ে প্রতিদিন দুই ঘন্টা করে সময় কাটাচ্ছে এসব প্ল্যাটফর্মে। বেশিরভাগ সময় কাটে মূলত নতুন কিছু পোস্ট করে, অন্যের পোস্ট করা জিনিস শেয়ার করে, মন্তব্য করে কিংবা লাইক দিয়ে। বৈশ্বিক জীবনের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে এই মিডিয়া যার বেশিরভাগ ফেসবুক ব্যবহারকারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবে আসক্ত হওয়ার ক্ষতিকর দিক নিয়ে একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে। প্রতিটি গবেষণার ফল পৃথক পৃথক ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। বিবিসির পক্ষ থেকে গবেষনার ফলগুলো একত্র করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি মোটামুটি কোন কোন ধরনের ক্ষতি ডেকে আনছে।
মানসিক চাপ: এই মিডিয়া মূল যে ক্ষতিটা ডেকে আনছে তা হচ্ছে, এটি ব্যবহারকারীদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন তারা নিজেরাও বুঝতে পারেন এক ধরনের জালে আটকা পড়েছেন। নিজের পোস্ট করা জিনিসটা অন্যদের কাছে কতটুকু সাড়া ফেলল, কয়জন কমেন্ট করল কিংবা লাইক দিল মনের মাঝে এই কৌতুহল কাজ করে সারাক্ষণ। একারণে কিছুক্ষণ পর পর হাতের মোবাইলে ইনস্টল করা অ্যাপে ঢুকে খেয়াল রাখতে থাকে। এই কৌতুহল তার মস্তিষ্ককে একটানা চাপের মধ্যে রাখে, যা ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলতে থাকে। আর কমেন্ট-লাইক না পেলে সেই চাপ আরো বেড়ে যায়। নিজের অজান্তেই বন্ধুদের পোস্ট করা জিনিসে কমেন্ট কিংবা লাইক দেয়াকে এক ধরনের দায়বদ্ধতা বলে মনে করে। তাদের মধ্যে এমন ভয় কাজ করে যে ওদের পোস্টে সাড়া না দিলে নিজেও সাড়া পাবে না। এভাবে মনের মাঝে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করে তা সুদুরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ফেসবুকিং থেকে তেমন কিছু অর্জন না হলেও নিজের অজান্তে নিজের মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে তার ক্ষতি করে চলে। গবেষণার এই রিপোর্ট প্রকাশ হবার পর সম্প্রতি ফেসবুক এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের প্ল্যাটফর্ম শুধু ক্ষতি করে এটা ঠিক নয়। যারা ব্যবসা বাণিজ্যের কাজে একে ব্যবহার করছে তারা আর্থিক উন্নতি লাভ করতে পারছে। কেউ যদি আসক্ত হয়ে নিজের ক্ষতি করে তবে তার দায় একান্তই তার নিজের। আমরা তার দায়ভার নিতে রাজি নই।
মেজাজ: ২০১৪ সালে অস্ট্রিয়ার একদল গবেষক কয়েক হাজার নারী পুরুষের উপর গবেষনা চালান। এদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে না, অন্য অংশ বিশেষভাবে এর প্রতি আসক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ব্যবহার করেন না তাদের চেয়ে যারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়মিত ব্যবহার করেন তাদের মেজাজ বেশি খিটখিটে এবং অস্থির মনের।

Comments
Post a Comment