এখনই লাগাম না টানতে পারলে সন্তানের ভবিষ্যৎ খুব খারাপ: Engr. M A Al Mamun, ICT Cell, University of Dhaka.
তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতায় মানুষের স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীলতা বর্তমান সময়ে আসক্তির মতো হয়ে গেছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, স্মার্টফোনের আসক্তি মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে; এমনকি মানসিকভাবে অসুস্থ করে ফেলছে ব্যবহারকারীকে। উদ্বেগের বিষয়, সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি মোবাইল ফোন দ্বারা আসক্ত হচ্ছে শিশু-কিশোররা। বিশেষত মহামারি করোনায় লকডাউনে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায়ই এমনটা ঘটছে বেশি। দেখা যাচ্ছে, মোবাইল গেম থেকে শুরু করে ফেইসবুকের বিভিন্ন কনটেন্টের নেশায় এখন প্রায় প্রত্যেক শিশু-কিশোরই আক্রান্ত। বিশ্লেষকদের মতে, মোবাইলে অনলাইন ক্লাস করার সুযোগে অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে বেশিরভাগ শিশু-কিশোর। এতে তারা এই ডিভাইস ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছে। যার ফলে ছোট থেকে বড় শিশু-কিশোররা মোবাইল ফোন হাতে থাকলে ভুলে যায় নাওয়া-খাওয়া। সারা দিন মোবাইল নিয়ে বসে থাকলেও তাদের ক্লান্তি স্পর্শ করে না। তারা মাদকের নেশায় ডুবে থাকার মতো মোবাইলের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা যত্রতত্র তথা রাস্তার মোড়, ব্রিজের ওপর, লোকজনের আড়ালে-আবডালে মোবাইল নিয়ে বসে সময় পার করে।
লক্ষণীয় বিষয়, মোবাইলের এ নেশার কবলে পড়ে নানা দুর্ঘটনারও শিকার হচ্ছে তারা, বিশেষত রাস্তা পারাপারের সময় ফেইসবুক খোলা থাকায় কেউ কেউ বেখেয়ালি হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। অনেকে আবার প্রচণ্ড অসামাজিকও হয়ে গেছে। অধিকাংশ বাড়িতে দেখা যায়, কেউ কারও সঙ্গে কথা না বলে মোবাইল ফোন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে। এছাড়া অল্পে মেজাজ হারানো কিংবা খিদে না পাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে তাদের মধ্যে। এমনকি ধীরে ধীরে একাকিত্ব পেয়ে বসছে তাদের, তারা স্বাভাবিকভাবে অন্যদের সঙ্গে মিশতে পারছে না। মনোবিদদের মতে, বিজ্ঞানের অগ্রগতির যুগে বেশিরভাগ শিশুই এখন জন্ম থেকে হাতে মোবাইল ফোন পেয়ে যাচ্ছে। ফলে ছোট থেকে গেম খেলা কিংবা ভিডিও দেখার শখ তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে দিনের অনেকটা সময় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ থাকায় চোখ লাল হওয়া বা চোখ থেকে জল পড়ার ঘটনাও ঘটছে। দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল হচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে, এ নেশা থেকে শিশু-কিশোরদের সরাতে না পারলে পুরো ভবিষ্যৎটাই অন্ধকারে ঢেকে যাবে। সন্তানের হাতে স্মার্ট ডিভাইস তুলে দিয়ে অভিভাবকদের নিশ্চিন্ত হয়ে থাকা যাবে না।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, মোবাইল আসক্তি কমাতে সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে, তাদের অন্য খেলায় ব্যস্ত রাখতে হবে। অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি তাদের লেখাপড়ায় অভিভাবকদেরও সাহায্য করতে হবে। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের স্মার্ট ডিভাইসের সামনে থাকার অভ্যাস করাতে হবে। ওই সময়ের বাইরে স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখতে হবে। পাশাপাশি স্মার্টফোনে তারা কী করছে বা কী দেখছে- তার প্রতিও নজর রাখতে হবে। শিশু যদি অনলাইনে ক্লাস করে, তাহলে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে সে কী করছে, সেটি খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া স্মার্টফোন থেকে আপত্তিকর ওয়েবসাইটগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজনে @safecaretech সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশের স্বার্থে মোবাইল আসক্তি দূরীকরণে অভিভাবকরা সচেতন হয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে- এমনটাই প্রত্যাশা।
@safecaretech

Comments
Post a Comment