Skip to main content

সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি

 


সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি
সাবিহা খানম একা
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৪০
সোশ্যাল মিডিয়ার যাত্রা অনেক আগে থেকে শুরু হলেও ২০১০ সাল থেকে মূলত দুনিয়া জুড়ে এর বিপ্লব ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ার মূল ফিচারই হলো সহজতর যোগাযোগব্যবস্থা।
১৯৭১ সালে রে টমিলিন্সন নামের একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার প্রথম ইমেইল পাঠিয়েছিলেন। যদিও সেটি পরীক্ষামূলক ছিল। অনেকেই মনে করেন সেই প্রথম ইমেইল পাঠানোর মধ্য দিয়েই তৈরি হয় সোশ্যাল মিডিয়ার উদ্ভাবন। এরিচ থমাস নামের আরেক প্রোগ্রামার ১৯৮৬ সালে লিসেনার নামের একটি স্যাফটওয়ার ডেভেলপ করেন। যার মাধ্যমে একটি মেইল পাঠালেই নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর কাছে মেসেজ চলে যাবে। ২০০৪ সালে তৈরি হয় ফেসবুক যা বর্তমানে পৃথিবীর সব থেকে জনপ্রিয় এবং সর্ববৃহত্ নেটওয়ার্কিং সিস্টেম।
সোশ্যাল মিডিয়ার যাত্রা অনেক আগে থেকে শুরু হলেও ২০১০ সাল থেকে মূলত দুনিয়া জুড়ে এর বিপ্লব ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ার মূল ফিচারই হলো সহজতর যোগাযোগব্যবস্থা।
১৯৭১ সালে রে টমিলিন্সন নামের একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার প্রথম ইমেইল পাঠিয়েছিলেন। যদিও সেটি পরীক্ষামূলক ছিল। অনেকেই মনে করেন সেই প্রথম ইমেইল পাঠানোর মধ্য দিয়েই তৈরি হয় সোশ্যাল মিডিয়ার উদ্ভাবন। এরিচ থমাস নামের আরেক প্রোগ্রামার ১৯৮৬ সালে লিসেনার নামের একটি স্যাফটওয়ার ডেভেলপ করেন। যার মাধ্যমে একটি মেইল পাঠালেই নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর কাছে মেসেজ চলে যাবে। ২০০৪ সালে তৈরি হয় ফেসবুক যা বর্তমানে পৃথিবীর সব থেকে জনপ্রিয় এবং সর্ববৃহত্ নেটওয়ার্কিং সিস্টেম।
সোশ্যাল মিডিয়াকে আসলে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। বাংলায় একে বলা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। যে ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারী বিভিন্ন কনটেন্ট শেয়ার করতে পারে তাত্ক্ষণিকভাবে, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা অনুভূতি শেয়ার করতে পারে তাকেই সোশ্যাল মিডিয়া বলে; কিন্তু বর্তমানে এই সোশ্যাল মিডিয়া সোশ্যাল ডিজিজে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে রাত—এমন কোনো সময় নেই যে আমরা মিডিয়ার বাইরে। মূলত ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সি মানুষ এটির প্রতি বেশি আসক্ত।
বিশেষত আমরা যারা ছাত্রছাত্রী যে সময়টা আমরা বই পড়ে, বাইরে ঘুরে, পরিবারের সঙ্গে গল্প করে কাটাতে পারি সেই সময়টা আমরা কাটাচ্ছি ভার্চুয়াল জগতে। যা টোটালি আমাদের ইমোশনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। যেমন ধরুন—আপনি একটি ছবি আপলোড করেছেন—তাতে শত শত লাভ, লাইক রিঅ্যাক্টসহ অনেক কমেন্টস পাস হলো, তখন আপনা আপনি আপনার মন ভালো হয়ে গেল; কিন্তু যদি হয় তা হিতের বিপরীত, তাহলে হয়তো কিছুক্ষণ পর মনটা বিষণ্ন করে ছবিটি ডিলিট করে দিবেন। ধরুন আপনি ফেসবুকে একটি কনটেন্ট সার্চ করেছেন; কিন্তু আপনি এই কনটেন্টের সঙ্গে রিলেটেড আরো অনেক কনটেন্ট পাচ্ছেন যা আপনার সময়কে নষ্ট করছে। আর যদি বলি ভার্চুয়াল বুলিংয়ের কথা একটি ছবি পোস্ট দেওয়ার পর অনেকের ইনবক্সে অনেক ধরনের কথা শুনতে হয়, যেমন ধরুন মোটা লাগছে, কালো হয়ে গেলেন কীভাবে, আপনাকে দেখতে মোটেও ভালো লাগছে না। আর সঙ্গে সাইবার ক্রাইম তো আছেই, যা অনেক নারীর আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিছুটা মাদকাসক্তের মতো আমরা ওতপ্রোতভাবে এটির সঙ্গে জড়িত। উদাহরণস্বরূপ আমি নিজের কথাই বলি, ভেবেছিলাম আমি মাত্র সাত দিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকব; কিন্তু চার দিন পর আমি হাঁপিয়ে উঠি। মনে হচ্ছিল এই পৃথিবীতে আমি একা বেঁচে আছি।
আপনি জানেন কি এই সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে তরুণদের ডিপ্রেশনের কারণ? আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে মূলত তারাই বেশি থাকে যাদের সঙ্গে আপনি স্কুল, কলেজ এবং ভার্সিটিতে পড়েছেন। এখন নিউজ ফিড স্ক্রল করলেই কারো চাকরি হয়ে যাওয়া, কারো সফলতার কাহিনি, আবার কারো নতুন জীবনসঙ্গী পাওয়ার গল্প। তখন আপনি যেটা আপনার বন্ধুর মতো করতে পারছেন না, তখনি আপনি বিষণ্নগ্রস্ত হচ্ছেন। ভাবছেন আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না, আমি ব্যর্থ; কিন্তু আজ একটি কথা বলি, মানুষ তার সফলতার গল্পই পাবলিক করে, খুব কম মানুষ আছেন যারা তাদের ব্যর্থতার গল্প পাবলিক করে থাকেন। অনুসন্ধান করে দেখবেন যে ব্যক্তিটি আজ সফল, শতবার হোঁচট খেয়েও আজ সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে। তাই হতাশ হবেন না।
সোশ্যাল মিডিয়ার যে ভালো দিক নেই তা নয়; কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ব্যবহার করা মোটেও সমীচীন নয়। আমরা এটির ব্যবহার কমানোর জন্য ফ্যামিলি মেম্বারদের সঙ্গে একত্রে গল্প করতে পারি ইউথআউট ডিভাইস, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মোবাইল, ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারি, বই পড়ার অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারি। সর্বোপরি আমরা যদি সোশ্যাল মিডিয়ার এই ব্যবহার আয়ত্ত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তাহলেই সোশ্যাল ডিজিজ নামক এই মহামারি থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব।

Comments

Popular posts from this blog

ফেসবুকের ক্ষতিকর দিকগুলো:

  ফেসবুকের ক্ষতিকর দিকগুলো: ফেসবুকের আবার ক্ষতি কি? এটি তো নিতান্তই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। উপরন্তু ইদানীং এটিকে অনেকের ব্যবসা আর জীবিকার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন। কত্ত পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পাওয়া যায় এই ফেসবুকে—যুক্ত থাকা যায় পৃথিবীর সব প্রান্তের সঙ্গে। জানা যায় অনেক কিছু, এমনকি সংবাদপত্র আর টেলিভিশনের চেয়েও দ্রুততর সময়ে হালনাগাদ তথ্যটি পাওয়া যায় ফেসবুকে। সবই তো ভালো। কথা সত্য। ফেসবুক সত্যিই ভালো। কিন্তু ‘ভালো’ভাবে এর ব্যবহার করতে না পরলে সমুদয় ক্ষতি। যেমন বিদ্যুতের কথাই ধরা যাক—বিদ্যুৎ কত উপকারী; বাতি জ্বলে, পাখা ঘোরে—বড় বড় কারখানা চলে বিদ্যুতে। কিন্তু একে ভালোবেসে বিদ্যুতের তার শরীরে জড়িয়ে রাখলে সমূহ বিপদ! তেমনি ফেসবুকের পরিমিত আর যৌক্তিক ব্যবহার করতে না পারলে ক্ষতি অনিবার্য। ফেসবুকের প্রধান ২১টি ক্ষতি হচ্ছে: ১. সময় নষ্ট : ফেসবুক ব্যবহারের দিক থেকে ঢাকা শহর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী। বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটির কাছাকাছি ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছেন। ২০১৭ সালে তরুণদের ওপর পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী শুধু চ্যাটিংয়ের জন্য গড়ে প্রতিদিন ৮০ মিনিট করে ব্যয় করেন বাংলাদেশের তরুণেরা।...

শিশুদের মোবাইল আসক্তি পরিণতি ও করণীয়: শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সভাপতি, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি।

  শিশুদের মোবাইল আসক্তি পরিণতি ও করণীয়: শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সভাপতি, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি। নিঃসন্দেহে ডিজিটাল প্রযুক্তি তথা মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ- এসব ডিভাইস সৃজনশীল এবং সুবিধাজনক। কিন্তু শিশুদের জন্য এটি বেশ বিপদজনক। এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার অর্থাৎ অত্যধিক স্ক্রিন টাইম শৈশবের সামাজিক এবং মানসিক বিকাশের ওপর ভীষণ রকম ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব ফেলে। বাস্তব জীবনে, যেসব শিশু তাদের পর্দায় আসক্ত, তারা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যেমন- খেলাধুলা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানো মিস করে; ফলে তাদের দক্ষতা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তা ছাড়া মনোনিবেশ করার এবং বাস্তবজীবনে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই শিশুর স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তাদের চোখের বিশ্রামের জন্য স্ক্রিন থেকে পর্যাপ্ত সময় বিরতি নিতে উপদেশ দিতে হবে। টিভি, মোবাইল গেম বা যে কোনো ধরনের ভার্চুয়াল এন্টারটেইনমেন্ট দেখার সময়ে আমাদের মস্তিষ্কের কোষ থেকে ডোপামিন নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ হয়। এ ডোপামিন আমাদের মনে এক ভালোলাগার অনুভূতি সঞ্চার করে। তার ফলে অতি সহজেই আমরা এ ধরনের এন্টারটেইনমেন্ট মি...

অপরিকল্পিত মোবাইল ব‍্যবহারে আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত অন্ধকার:

  অপরিকল্পিত মোবাইল ব ‍ ্যবহারে আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত অন্ধকার: তথ্যপ্রযুক্তির এ সময়ে স্মার্টফোন নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা মহামারির লকডাউনের সময়ে এর ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। প্রায়ই দেখা যায়, অভিভাবকরা বাচ্চাকে শান্ত রাখার জন্য তার হাতে স্মার্টফোন বা ট্যাব দেন। গান, কার্টুন বা মজার ভিডিও চালিয়ে দিয়ে তাকে শান্ত রাখা হয়। আবার স্কুল-কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের কারণে বাধ্য হয়েই শিশুর হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন। দিনের অনেকটা সময় শিশুদের স্মার্টফোন হাতে থাকায় এক ধরনের আসক্তিতে রূপ নিয়েছে এটি। আজকের আয়োজনে শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি দূর করতে করণীয়সহ বিস্তারিত আলোচনা। বর্তমানে অনলাইন ক্লাস, বিনোদন ও কার্টুন- এসবের কারণে শিশুদের সিংহভাগ সময় কাটে স্মার্টফোনে। এখন শিশুরা সাধারণত মোবাইল, টেলিভিশন, স্মার্টফোন, ট্যাব ও ইউটিউবে সময় কাটায়। এটি অনেকেই ভালোভাবে দেখে। কিন্তু এ প্রযুক্তির কারণে শিশুদের মধ্যে নানাবিধ বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে, এমনকি অতি অল্প বয়সেই তারা অ্যাডাল্ট বিভিন্ন কনটেন্ট দ্বারা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এভাবেই শিশুগুলো মোবাইলে অ্যাপসগুলোর সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে...